মতামত

নভেল করোনাভাইরাস ও বন্দী মুক্তি

নভেল করোনাভাইরাস ও বন্দী মুক্তি - সংগৃহীত
নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) বিশ্বকে ভীতসন্ত্রস্ত করে রেখেছে প্রায় চার মাস। চীন থেকে শুরু হয়ে বর্তমানে বিশ্বের ২০৩টি দেশের মানুষের মধ্যে এই মরণব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছে। এ মহামারী থেকে বাঁচার জন্য বিশ্ববাসী আকাশপানে তাকিয়ে আছে। মুসলিমরা মহান আল্লাহর দরবারে এ ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করছে। বাংলাদেশের মানুষও এ ভীতির বাইরে নয়। এরই মধ্যে সরকার সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করেছে। সরকারি-বেসরকারি সব শিক্ষা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তিন দফায় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নভেল করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৩১৫ জন, মারা গেছে এক লাখ ৮ হাজার ৮২৮ জন, সুস্থ হয়েছে চার লাখ চার হাজার ৩১ জন। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডঐঙ) এবং বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জনগণকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বৃদ্ধি বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। বলা হচ্ছে, একজন আরেকজন থেকে কমপক্ষে তিন ফুট দূরত্বে থাকতে হবে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ৬৮টি কারাগারে ৮৯ হাজারেরও বেশি বন্দী আটক রয়েছে। অথচ এ কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতা ৪১ হাজার ৩৪০ জন মাত্র। শুধু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১০ হাজারের বেশি কয়েদি রয়েছে। ওই কয়েদিদের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত, বিচারাধীন, আটকাদেশ প্রাপ্ত ও বিদেশী নাগরিক নারী-পুরুষ রয়েছে।
এমতাবস্থায় কয়েদি ও কারা কর্মকর্তাদের জন্য সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারাবন্দী ও কারা কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজন মহা উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় অতিবাহিত করছে। যেখানে জনগণকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য বলা হচ্ছে, সর্দি-কাশি আক্রান্ত লোককে মসজিদে যেতে বারণ করা হচ্ছে, গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে; সেখানে কারা পরিদর্শক, ডাক্তার ও কর্মকর্তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত জেলখানায় ডিউটিতে যেতে হচ্ছে।
Ad by Valueimpression
করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) থেকে রক্ষার জন্য স্বাস্থ্য সচেতন থাকতে জোর তাগিদ দেয়া হচ্ছে। সেখানে জেলখানায় দু-তিন শ’ বন্দীর জন্য একটি মাত্র টয়লেট। বন্দীদের দুর্গন্ধযুক্ত টয়লেটের সামনে ঘুমাতে দেয়া হয়। বন্দীরা নিরাপদ দূরত্ব কিভাবে বজায় রাখবে? কারাগার হাসপাতালগুলো ভিআইপি কয়েদিদের আয়েশি জীবন যাপনের নিরাপদ কেন্দ্র। অসুস্থ বন্দীদের সেখানে থাকার কোনও সুযোগ নেই বললেই চলে। অসুস্থ বন্দীরা সেখানে নামেমাত্র চিকিৎসা পেয়ে থাকে। আল্লাহ না করুন যদি চীন, স্পেন, ইতালি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিপর্যয় নেমে আসে তাহলে বাংলাদেশের মানুষ ও বন্দীরা চিকিৎসাহীন অবস্থায় মৃত্যুর মিছিলে শামিল হবে। কারাগারেও করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক কারাগারে ১৬৭ জন কয়েদি ও ১১৪ জন কারাকর্মীর শরীরে করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে একজন কারা স্টাফ করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। নিউ ইয়র্ক সিটির বোর্ড অব কারেকশন দুই হাজার ১৮৫ জন কয়েদিকে জামিন প্রদানের জন্য সুপারিশ করেছে। এদের মধ্যে ৯০৬ জন বন্দী রয়েছে ষাটোর্ধ্ব। নিউ ইয়র্ক সিটির গভর্নর বলেন, ধারাবাহিকভাবে বন্দীদের মুক্ত করা হবে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২২ মার্চ থেকে যুক্তরাজ্যে ২২৬ জন কয়েদি ও ১৩১ জন কারা স্টাফ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।
নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ভয়াবহতায় ইতোমধ্যে ইরান ৮৫ হাজার কয়েদিকে জামিন দিয়েছে। ইরানের বিচারবিভাগীয় প্রধান ইবরাহিম রইসি জানান, করোনার ভয়াবহতা না কমা পর্যন্ত বন্দী মুক্ত করার এ ধারা অব্যাহত থাকবে। (স্কাই নিউজ)
কারাসূত্রে জানা যায়, দেশের ৬৮টি কারাগারের মধ্যে মাদারীপুর কারাগার লকডাউন করা হয়েছে। মাদারীপুরে অধিক সংখ্যক বিদেশফেরত প্রবাসীর কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারা অধিদফতর। বাগেরহাট কারাগারে নতুন বন্দী তিন চাইনিজ নাগরিককে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে প্রতিটি কারাগারে নতুন বন্দীদের জন্য আলাদা সেল খোলা হয়েছে। এই সেলে রাখা হয়েছে ১৪টি কক্ষ। নিরাপত্তা নিশ্চিতে বন্দীদের পর্যায়ক্রমে ১৪টি কক্ষে নেয়া হচ্ছে। ‘নতুন আমদানি সেল’ নামে এই সেলে বন্দী আনার আগেই তাদের পরীক্ষা ও তল্লাশি করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
কারাগার বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে এই মুহূর্তে কারাগারের ধারণক্ষমতা বিবেচনা করে কিছু বন্দী কমানো দরকার। অথচ কোর্ট বন্ধ থাকায় অন্যান্য সময়ের মতো স্বাভাবিক জামিনও হচ্ছে না, অন্য দিকে কয়েদি বাড়ছে প্রতিনিয়ত। কারাগার বিশেষজ্ঞ ও সাবেক ডিআইজি প্রিজন মেজর জেনারেল সামছুল হায়দার সিদ্দিকি গণমাধ্যমকে বলেছেন, করোনাভাইরাস একটি ছোঁয়াচে রোগ, সে তুলনায় কারাগারে বন্দীদের ভিড় বেশি থাকে সবসময়। গাদাগাদি করে থাকতে হয়। লঘু দণ্ডপ্রাপ্ত যে সব অপরাধী রয়েছে তাদের জামিনের ব্যবস্থা করলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমত। বিষয়টি সরকার ও সংশ্লিষ্টরা বিবেচনা করতে পারেন। তিনি আরো বলেন, শুধু বন্দীদের বিষয় দেখলে হবে না বরং বন্দীদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত কারারক্ষী, পরিদর্শক ও ডাক্তারদের স্বাস্থ্য বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। তারা যেন সতর্কতার সাথে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে কারাগারে ডিউটি পালন করে।
বন্দীদের মর্যাদা ও অধিকার প্রদানে ইসলাম : ইসলাম বন্দীদেরকে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে। রাসূল সা: বন্দীদের সাথে কোমল ব্যবহার করার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। বদর যুদ্ধের বন্দীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করার জন্য তিনি সাহাবিদের নির্দেশ দেন। অসুস্থ বন্দীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে তাগিদ দিতেন। ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দীদেরকে এমন স্থানে রাখতে হবে যেখানে তারা জীবনের নিরাপত্তাবোধ করবে। সমূহ অনিষ্ট, ভীতি ও ক্ষতি থেকে বন্দীদেরকে দূরে রাখতে হবে। কেননা, বন্দীদের আটকের উদ্দেশ্য হলো- মানব মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে তাদের সংশোধন করা ও সমাজের কল্যাণে প্রস্তুত করা। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘শরিয়তের দৃষ্টিতে কয়েদিকে নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন জায়গায় আটক রাখবে, যেখানে তার ব্যক্তিগত কোনো শক্তি প্রয়োগের সুযোগ থাকবে না। চাই সে বন্দিত্ব ঘরে, মসজিদে কিংবা কারাগারে হোক। (মাজমুউল ফাতাওয়া : ৩৫/৩৯৮)
রাসূল সা: বন্দীদের রাখার জন্য প্রশস্ত ও আলো প্রবেশ করে এমন তাবু নির্বাচন করতেন। যাতে বন্দীরা শারীরিক ও আত্মিক প্রশান্তি লাভ করে। রাসূল সা: কয়েদিদের মসজিদে নববীতে বন্দী করে রাখতেন। মসজিদে নববী তখন ৩২৮১ মিটার প্রশস্ত ছিল, যা পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতায় সুশোভিত ছিল। যাতে সাহাবাদের সাথে বন্দীদের নিয়মিত সাক্ষাৎ হয়। কয়েদিরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে নববীতে আদায় করে এবং রাসূল সা:-এর নসিহত ও খুতবা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। আধুনিক যুগে এ ধরনের কারাগারকে উন্মুক্ত কারাগার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, যাতে কয়েদিদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করে।
[সহিহ ইবনে খুজায়মা : ২/২৮৫, হুকুকুল মাসজুন ফিশ শরিয়াতিল ইসলামিয়া : পৃষ্ঠা ৫৪, সহিহুল বুখারি, বাবু রবতিল আসিরে ফিল মসজিদে, হাদিস নং : ৪৫০, সহিহ মুসলিম, বাবু রবতিল আসিরে ওয়া হাবসিহি, হাদিস নং : ১৭৬৪]
রাসূল সা: দণ্ডপ্রাপ্তদের ঘরে বন্দী রাখার জন্য নির্দেশ দিতেন। যাতে তারা তাদের মৌলিক অধিকার স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ করতে পারে। আমিরুল মুমিনিন ওমর ইবনুল খাত্তাব রা: একটি ঘর কিনে তা কারাগারের জন্য নির্দিষ্ট করে রাখেন। আলী রা: সর্বপ্রথম কারাগার নির্মাণ করেন। পক্ষের মুসলিম শাসকরা খলিফাদের পথ অনুসরণ করেন। কারাগারগুলো মানুষের বসবাসের নিকটবর্তী এলাকায় স্থাপন করা হয়, যাতে বন্দীরা আজান শুনতে পায়। [আখবারুল কুযাত লিল ওয়াকি : ৩/১৬৫, নিযামুশ শুরতা ফিল ইসলাম : পৃষ্ঠা ১৮৬]
মানবমণ্ডলীকে অসুস্থতা, ঝুঁকি ও মহামারী থেকে রক্ষা করা ইসলামী শরিয়তের অন্যতম নির্দেশনা। আল্লাহর ভাষায় : তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না। [সূরা বাকারা : ১৯৫]
ফিকহ বিশেষজ্ঞরা বলেন, বেশিসংখ্যক বন্দীকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আটক রাখা জায়েজ নয়. যেখানে শীতে ও গরমে বন্দীদের কষ্ট হয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব কয়েদিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। ইসলামী আইনবিদরা আরো বলেন, বন্দীদেরকে কারাগারে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে। ডাক্তার ও নার্সদের রোগীর সেবায় জেলখানায় প্রবেশে বাধা দেয়া যাবে না। জেল কর্তৃপক্ষ যদি কোনো কয়েদিকে বাইরে চিকিৎসা করাতে বাধ্য হয় তাহলে বিচারক তাকে বাইরে নেয়ার অনুমতি দেবেন। কোনো কোনো ফকিহ সে ক্ষেত্রে জামিনদারের মাধ্যমে বাইরে পাঠানোর শর্তারোপ করেন। তবে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হলে জামিনদারের প্রয়োজন নেই। [আল এখতিয়ার : ৫/২৬, হাশিয়াতু ইবনে আবেদিন : ৫/৩৭৮, ফাতহুল কাদির ইবনুল হুমাম : ৫/৪৭১, আদাবুল কাযি লিল খাসসাফ : ২/৩৭৫, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ৪/৪১২, হুকুকুল মাসজুন ফিশ শরিয়াতিল ইসলামিয়া : পৃষ্ঠা ৭৬]
ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে কারাগার সংরক্ষিত রাখতে দেশের তিন হাজার কারাবন্দীকে জামিন দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। করোনায় সৃষ্ট দুর্যোগের কারণে কারাবন্দীর সংখ্যা কমাতেই দেশের ৬৮ কারাগারে ছোটখাটো অপরাধ ও জামিনযোগ্য ধারায় বিচারাধীন তিন হাজারের বেশি কারাবন্দীকে জামিন দিতেই এ উদ্যোগ বলে কারা সূত্রে জানা গেছে। এরপরও ৪১ হাজার ৩১৪ জন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন কারাগারগুলোতে বাকি ৮৬ হাজারেরও বেশি কারাবন্দীকে গাদাগাদি করে থাকতে হবে, যা করোনাসৃষ্ট মহামারীর সময়ে ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ।
বর্তমান সময়ে কয়েদিদের সব ধরনের সুবিধা বিনষ্ট হচ্ছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। এমতাবস্থায় কারাগার বিশেষজ্ঞ ও আইন গবেষকদের মতামত অনুযায়ী ১৯৬০ সালের বিচারবিভাগীয় অধ্যাদেশের আলোকে লঘু দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি, রাজনৈতিক বন্দী, শিক্ষাবিদ, বয়োবৃদ্ধ বন্দী ও নারী বন্দীদের শর্তসাপেক্ষে জামিন দেয়ার ব্যবস্থা করা যায় কি না, বিচার বিভাগসংশ্লিষ্টরা বিষয়টি অতীব গুরুত্বের সাথে দেখবেন বলে আশা করছি।
লেখক : মুফতি, আরবি ভাষাবিদ, এমফিল গবেষক (কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)
amimul1@yahoo.com

লেংড়া মশা

-
এটা এক ‘লেংড়া মশার’ কারসাজি। এ মশা প্রতিটি যুগে কোনো এক শক্তিধর শাসকের নাকের ভেতর ঢুকে যায়। নাকের পথ ধরে পৌঁছে যায় শাসকের মস্তিষ্কে। শাসক বিভ্রান্তিমূলক ফায়সালা করতে থাকে। এর ফলস্বরূপ শুধু ওই শাসকই নয়, তার পুরো জাতিকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আজ বিশ্বের সবচেয়ে আলো ঝলমলে শহর বিরান হয়ে যাচ্ছে। ‘করোনাভাইরাস’ নামের আন্তর্জাতিক মহামারীর ভয়ে সব কিছু বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কখনো ভাবিইনি যে, আমাদের জীবনে এমন একসময় আসবে, যখন ওলামায়ে কেরাম বলবেন, মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করার প্রয়োজন নেই; নামাজ ঘরে আদায় করুন। কখনো ভাবিনি গির্জা-মন্দিরসহ সব উপাসনালয়ের দরোজা বন্ধ হয়ে যাবে। লাখ লাখ মানুষ মৃত্যুর ভয়ে নিজেই নিজেকে ঘরে বন্দী করে রাখবে। ভীতিকর এ পরিবেশের মধ্যে চিন্তাভাবনা করতে গিয়ে মস্তিষ্কের কিছু দরোজা খুলে যাচ্ছে। এমনটি নয় যে, করোনাভাইরাস হঠাৎ পুরো বিশ্বকে তার মুঠোয় নিয়ে নিয়েছে। বিজ্ঞানীরা ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা কয়েক বছর ধরে সতর্ক করে আসছেন, এক আন্তর্জাতিক মহামারী বিশ্বকে ঘিরে ফেলবে।
ওই বিজ্ঞানীরা এ মহামারীকে দমন করার জন্য যে ফান্ড চেয়েছিলেন, তা শক্তিধর শাসকদের জন্য মাত্র কয়েকটি শস্যদানার সমান ছিল। কিন্তু তাদের মস্তিষ্কে ‘লেংড়া মশা’ ঢুকে গেছে। এ কারণে এ শাসকরা আন্তর্জাতিক মহামারীর পরিস্থিতি সামলানোর পরিবর্তে সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ দমনের নামে শুরু করা যুদ্ধে হাজার হাজার কোটি ডলার ব্যয় করে যাচ্ছেন। মিডিয়া বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, সন্ত্রাসবাদের চেয়ে বড় ভয়ঙ্কর বিশ্বব্যাপী কোনো মহামারী দেখা দিতে পারে। কিন্তু শক্তিধর শাসকরা টিভি চ্যানেল ও পত্রপত্রিকাকে ‘ফেক নিউজ’ বলে তাচ্ছিল্য করে সোশ্যাল মিডিয়ার ঘোড়ায় সওয়ার হয়েছিলেন এবং মহাউন্মাদনায় আক্রান্ত হয়ে বিভ্রান্তিমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজ ওই বিভ্রান্তিমূলক সিদ্ধান্তের খেসারত পুরো বিশ্বকে ভুগতে হচ্ছে। ২৫ মার্চ সকালে এক মার্কিন ম্যাগাজিন Clinical Microbiology Reviews-এর অক্টোবর-২০০৭ সংখ্যায় প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ পড়লাম। (আগ্রহীরা প্রবন্ধটি পড়তে এই লিংকে প্রবেশ করুন- https://cmr.asm.org/content/20/4/660?fbclid=IwAR25vv13xXrCO8tM4bHEW4uU2gr71bIgi61iica3gjDfTgxQgR3MHFUyqhs-অনুবাদক) ওই প্রবন্ধে পাঁচজন বিজ্ঞানী ১৩ বছর আগে বিশ্বকে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন। এ ম্যাগাজিন আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবায়োলজির তত্ত¡াবধানে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। কয়েক বছর পর এক মার্কিন থিংকট্যাংক র্যান্ড করপোরেশন ২০১২ সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদ নয়, ভবিষ্যতে আমেরিকার জন্য বড় হুমকি হবে এক আন্তর্জাতিক মহামারী, যা পরিপূর্ণরূপে আমেরিকার জীবনধারা বদলে দেবে। ওবামার শাসনামলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার লিজা মোনাকো এ ব্যাপারে মনোযোগ দেয়া শুরু করেন। কিন্তু ২০১৬ সালে ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হলেন।
মার্কিন বিজ্ঞানীরা ট্রাম্পের কাছে আবেদন জানান, আপনি সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছেন। আমাদেরকে একটা আন্তর্জাতিক মহামারী দমন প্রক্রিয়া অনুসন্ধানের জন্য বার্ষিক মাত্র এক বিলিয়ন ডলার দেয়া হচ্ছে। আমাদের আর মাত্র এক বিলিয়ন অতিরিক্ত ডলার বরাদ্দ করুন, যাতে আমরা শুধু আমেরিকা নয়, বরং পুরো বিশ্বকে এক নতুন মহামারী থেকে নিরাপদ রাখতে পারি, যে মহামারী চীন থেকে জন্ম নিতে পারে। ট্রাম্প এ আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। তার ধারণা ছিল, এ মহামারী চীনে জন্ম নিলে তা শুধু চীনকেই বিপর্যস্ত করবে। কিন্তু যখন মহামারী ছড়িয়ে পড়ল তখন আমেরিকাও বন্ধ হতে চলেছে। এখন ট্রাম্প আরো বেশি অর্থ বরাদ্দ করেছেন, কিন্তু এতে অনেক দেরি হয়ে গেল।
বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের ওষুধ খুঁজে পাননি। সুতরাং কেউ এটাকে ‘আল্লাহর আজাব’ বলছেন, কেউ বলছেন ‘পরীক্ষা’। এমন মহামারী এই প্রথমবার আসেনি। কুরআন শরিফে এমন মহামারীর উল্লেখ পাওয়া যায়, যার কারণে আত্মম্ভরী ও ভ্রষ্টজাতিগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। কুরআন শরিফে সূরা আরাফে প্লাবন, পঙ্গপাল ছাড়াও ব্যাঙের আধিক্য ও রক্তবৃষ্টিকেও আজাব হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ১৯৮১ সালে দক্ষিণ গ্রিসে আকাশ থেকে ব্যাঙের বৃষ্টি হলে বিজ্ঞানীরা অস্থির হয়ে পড়েছিলেন। শ্রীলঙ্কায় ব্যাঙের সাথে আকাশ থেকে মাছও বর্ষণ করা হয়। ২০০১ সালে ভারতের কেরালা রাজ্যে রক্তবৃষ্টি হয়েছে। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে আকাশ থেকে মাকড়শার বৃষ্টি হয়। বিজ্ঞানীরা গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করে এ কথা বলে সান্ত্বনা দেন যে, সম্ভবত ঘূর্ণিঝড় স্থল ও সমুদ্রের প্রাণী আকাশে নিয়ে গেছে এবং সেই প্রাণী বৃষ্টির মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে ফিরে এসেছে। কিন্তু এ ঘটনাবলির ইঙ্গিত অনেক আগেই কুরআন শরিফে দেয়া হয়েছে। কুরআন শরিফ স্বয়ং এক বিশাল মুজেজা।
এ কুরআন শরিফের মধ্যে এমন কয়েকটি মুজেজার উল্লেখ রয়েছে, যার সামনে বিজ্ঞান অসহায়। তবে বিজ্ঞান বারবার কুরআন শরিফের সত্যতা প্রমাণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সূরা ইউনুসে ফেরাউনকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে, আমি তোর দেহকে রক্ষা করছি, যাতে তুই পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পারিস। কুরআন শরিফ যখন নাজিল হচ্ছিল, তখন কারো জানা ছিল না, ফেরাউনের মরদেহ সংরক্ষিত আছে। প্রায় তিন হাজার বছর পর্যন্ত ফেরাউনের মরদেহ একটি কবরে পড়ে রয়েছিল। ১৮৯৮ সালে ফেরাউনের মমি করা মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। ১৯০৭ সালে এলিয়ট স্মিথ তার বৈজ্ঞানিক ময়নাতদন্ত করে বলেন, এটা সেই ফেরাউন, যে হজরত মূসা আ:-এর পিছু ধাওয়া করতে গিয়ে লোহিত সাগরে ডুবে মরেছিল। ফেরাউনের মমি করা মরদেহ ১৮৬০ সালে মিসর থেকে চুরি হয়ে কানাডার একটি জাদুঘরে স্থান পায়। এরপর সেটা কানাডা থেকে আমেরিকার জাদুঘরে পৌঁছে। এরপর ২০০৩ সালে সেখান থেকে মিসরে ফিরে আসে। ২০০৯ সালে এ অধমেরও মিসরে ফেরাউনের মমি করা মরদেহ দেখার সুযোগ হয়েছে। মিসরের একটি জাদুঘরে পড়ে থাকা, এ মমি কুরআন শরিফের ভবিষ্যদ্বাণী ও তার সত্যতার প্রমাণ। কুরআন শরিফের তথ্যমতে, হজরত ঈসা আ:-কে আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। হজরত ইউনুস আ: ৪০ দিন মাছের পেটে জীবিত ছিলেন। ‘আসহাবে কাহাফ’ তাদের কুকুরসহ একটি গুহায় ৩০৯ বছর পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকার পর আবার জাগ্রত হয়েছিলেন। নমরুদ হজরত ইবরাহিম আ:-কে আগুনে নিক্ষেপ করে, কিন্তু আগুন তার কিছুই করতে পারেনি। কুরআন শরিফে বর্ণিত এ কাহিনীগুলোকে অমুসলিম কিছু বিজ্ঞানী স্বীকার করেন না। তবে তারা এ কথার উত্তর দিতে পারেন না যে, এ সব ঘটনা এমন এক রাসূল সা: কিভাবে জানলেন, যিনি লেখাপড়া জানতেন না, উম্মি বা নিরক্ষর ছিলেন?
এ অধমের আবেদন, কুরআন শরিফ আল্লাহর নাফরমান জাতির ধ্বংসের কাহিনীতে ভরপুর। ফেরাউন-নমরুদের মতো শাসকরা তাদের ঔদ্ধত্য ও বিভ্রান্তিমূলক ফায়সালার কারণে পুরো জাতির ধ্বংস ডেকে নিয়ে এসেছে। নমরুদ হজরত ইবরাহিম আ:-কে আগুনে নিক্ষেপ করেছিল, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাঁর বন্ধু বা খলিলকে উদ্ধার করেছেন। ইবরাহিম আ: আল্লাহর আদেশে মাতৃভ‚মি ত্যাগ করে হিজরত করেন। নমরুদের নাকের ভেতর একটি লেংড়া মশা ঢুকে পড়ে। ওই মশা মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। এ মশা যখনই তাকে জ্বালাতন করত, তখনই নমরুদ নির্দেশ দিত, আমার মাথায় জুতা মারো। সে সিংহাসনে বসে নিজের মাথায় জুতা পেটাত। জুতার আঘাত বন্ধ হতেই মশা আবার হুল ফোটাত। আর নিজে নিজেকে খোদা দাবিদার শাসক তার দরবারিদের বলত, আমাকে আবার জুতা মারো। অবশেষে এ নমরুদ জুতার বাড়ি খেতে খেতে জাহান্নামে পৌঁছে গেছে। তবে লেংড়া মশা কিন্তু এখনো জীবিত আছে। এটা সময়ের কোনো না কোনো নমরুদের নাকের পথ ধরে তাদের মস্তিষ্কে ঢুকে পড়ে এবং তাদের অহমিকাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। আমি কোনো আলেমও নই, বিজ্ঞানীও নই; এক সাধারণ সাংবাদিক। আমাকে বলতে দিন, করোনাভাইরাস আধুনিক যুগের নমরুদদের ভ্রষ্টনীতি ও বিভ্রান্তিমূলক সিদ্ধান্তের কুফল। পুরো বিশ্ব এর খেসারত ভুগছে। বর্তমানে লেংড়া মশা একাধিক শাসকদের মস্তিষ্কে ঢুকে বসে আছে। খুব দ্রুত আপনারা এ সব আত্মম্ভরী শাসকদের জুতার বাড়ি খেতে দেখবেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন। আমিন। 
পাকিস্তানের দৈনিক জং ২৬ মার্চ, 
২০২০ সংখ্যা থেকে ভাষান্তর ইমতিয়াজ বিন মাহতাব
ahmadimtiajdr@gmail.com 
লেখক : পাকিস্তানের জিও টিভির নির্বাহী সম্পাদক


করোনা নয়, করুণা চাই

করোনা নয়, করুণা চাই - সংগৃহীত
সারা বিশ্ব আজ করোনার আতঙ্কে দিশেহারা, অসহায় ও বন্দিদশায় দিন যাপন করছে। ধনে-জনে, গবেষণায় ও ক্ষমতায় বিশ্বের তাবৎ শক্তিশালী দেশগুলোও আজ করোনার আগ্রাসনে নুয়ে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছেন লাখো লাখো। ইতোমধ্যে সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত ১৭ লাখের উপরে, মৃত্যু হয়েছে এক লাখ তিন হাজার জনের। আর বাংলাদেশে আক্রান্ত ৪৮২ জন ও মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের। দিনরাত শত চেষ্টার পরেও এর ভ্যাকসিন বা টিকা আবিষ্কারে এখনো বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলো ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। তবুও চলছে আবিষ্কারের আপ্রাণ চেষ্টা। সর্বোচ্চ সচেতনতামূলক ব্যবস্থা অবলম্বন করেও রেহাই মিলছে না করোনার কবল থেকে। নেই রুটি-রোজগারের কোনো ব্যবস্থা। খেয়ে না খেয়ে, অনাহারে-অর্ধাহারে চলছে খোদ উন্নত দেশগুলোর মানুষের দিন যাপন। তবে আমরা এখনো তাদের চেয়ে সার্বিকভাবে ভালো আছি।
সরকারিভাবে সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবাও চলছে দেশজুড়ে। প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফা নির্দেশনা আমলে নিয়ে কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসন। মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। সরকারিভাবে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে নি¤œ আয়ের মানুষদের। এভাবে করোনার চোখ রাঙানি চলতে থাকলে ক’দিন পরে নি¤œ আয়ের মানুষের মতো, নি¤œ মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষদের ত্রাণের ওপর নির্ভর করতে হবে। এই অব্যাহত পরিস্থিতিতে সরকারইবা কত দিন সামাল দিতে পারবে তাতেও রয়েছে রীতিমতো সংশয়। এই অবস্থায় যেসব দেশ আমাদের অন্তত ত্রাণের মাধ্যমে সহায়তা করবে তারাও আমাদের চেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে। কেউ জানে না কবে থামবে করোনার এই তাণ্ডব। তবুও সংক্রমণ রোধে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে, মনোবল রেখে আরো সচেতন হতে হবে, মানতে হবে সরকারি সব নির্দেশনা। কারণ এই পরিস্থিতিতে এর কোনো বিকল্প নেই।
মানুষ সব দিক দিয়ে যখন করোনার কাছে দুর্বল ঠিক তখনই বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর রাষ্ট্রনেতা ও সাধারণ মানুষ নিজ নিজ স্রষ্টার কাছে এই গজব থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য হাত উঠিয়েছেন। অনেক বিধর্মী রাষ্ট্রপ্রধানরাও কুরআনকেই সত্য বলে মেনেছেন, আল্লাহর কাছে মুক্তি চেয়েছেন। জানা যায়, যেসব দেশে প্রকাশ্যে আজান দেয়ার রীতি সরকারিভাবে বন্ধ ছিল সেসব দেশেই আজ তারা প্রকাশ্যে আজান দিচ্ছেন, মসজিদমুখী হচ্ছেন। আল্লাহ করোনার মতো প্রাণঘাতী মহামারী দিয়ে আজ বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছেন সব ক্ষমতা কেবল তারই হাতে। তাই এখনই বিশ্ববাসীকে ব্যভিচার, জিনা, অন্যায়ের পথ থেকে সরে আসতে হবে। মানতে হবে আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ। ইসলামের ইতিহাস থেকে জানা যায় যখন মানুষ এতটাই গোনাহর কাজ, অন্যায়, অবিচার, জিনা ইত্যাদির মতো কাজে বেশি লিপ্ত থাকে, আল্লাহ ভয় মন থেকে দূরে থাকে ঠিক তখনই আল্লাহ গজব নাজিল করেন। বুঝিয়ে দেন আল্লাহকে অমান্য করার ভয়াবহতা বা শাস্তি কত ভয়ঙ্কর হতে পারে।
যুগে যুগে, শতাব্দীতে শতাব্দীতে এমন বহু মহামারীর ভয়ঙ্কর তাণ্ডব চালানোর ইতিহাস আমরা জেনেছি। যতটুকু বুঝা যাচ্ছে, এখনই কোনো সঠিক চিকিৎসা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার সম্ভব হবে না তাই এর নিয়ন্ত্রণ ও পরিত্রাণ কেবল স্বয়ং বিধাতার হাতেই। আর যদিও কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয় তত দিনে প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক বা অন্যান্য যে ক্ষয়ক্ষতির মুখে আমরা এবং বিশ্ব পড়বে তা কাটিয়ে উঠতে হয়তো কয়েক যুগ লেগে যাবে। তাই আসুন মুক্তির লক্ষ্যে আমরা তওবা করে আল্লাহর ইবাদত করি। নবী করিম সা:-এর পথ অনুসরণ করে মেনে চলি আল্লাহর সব আদেশ-নিষধ। আল্লাহর কাছে এই মহামারী করোনার কবল থেকে মুক্তি চাই। চাই করুণা।
প্রকৌশলী ও প্রাবন্ধিক, হবিগঞ্জ




No comments:

Post a Comment

টটটটট

প্রত্যাশিত গোল ($\lambda$) ক্যালকুলেটর ⚽ অ্যাডভান্সড প্রত্যাশিত গোল ($\lambda$) ক্যালকুলেটর আক্রমণ শক্তি (AS)...